Why are days and nights not equal throughout the year? বৎসরের সকল সময় দিন রাত্রি সমান হয় না কেন, তাহা বিশদ ভাবে বুঝাইয়া দাও।]

 Why are days and nights not equal throughout the year? বৎসরের সকল সময় দিন রাত্রি সমান হয় না কেন, তাহা বিশদ ভাবে বুঝাইয়া দাও।]

Why are days and nights not equal throughout the year? বৎসরের সকল সময় দিন রাত্রি সমান হয় না কেন, তাহা বিশদ ভাবে বুঝাইয়া দাও।]


পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করিয়া উহার চারিদিকে ঘুরিতেছে। আবার পৃথিবীর অক্ষ বা মেরুরেখা উহার কক্ষপথের তলের সহিত সর্বাবস্থায়ই ৬৬২০ ডিগ্রী কোণ করিয়া' অবস্থিত। উপরে পৃথিবীর বিভিন্ন অবস্থানের চিত্র দেওয়া হইল।


মেরুরেখা কক্ষতলের সহিত সমকোণে থাকিলে ছায়াবৃত্ত সর্বদাই বিষুবরেখা ও অন্যান্য সমাক্ষরেখাকে সমান দুইভাগে বিভক্ত করিত। ফলে সর্বত্রই দিবারাত্রি সমান হইত। অবশ্যই পৃথিবী গোলাকার বলিয়া নিরক্ষীয় অঞ্চল সর্বাধিক তাপ পাইত এবং মেরুদ্বয়ে সূর্যালোক তির্যকভাবে পড়ায় সেই সব জায়গা কম উত্তাপ পাইত।


কিন্তু মেরুরেখা কক্ষতলের সহিত কোণ করিয়া একই দিকে হেলিয়া থাকার দরুন পরিক্রমণের সাথে সাথে দিবারাত্রির তারতম্য ঘটিয়া থাকে। প্রকৃতপক্ষে ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য বিষুবরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে ঐ দুইদিন দিবা ও রাত্রি সমান হয়। দিবা ও রাত্রি সমান বলিয়া ঐ দিন দুইটিকে equinox (equi = equal, nox = night) বলা হয়। ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে ঐ সময় বসন্তকাল। এইজন্য ঐ দিনকে বলে মহাবিষুব বা Spring or Vernal Equinox। ২৩শে সেপ্টেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বলিয়া ঐ দিনকে বলা হয় জলবিষুব (Autumnal equinox)।


পরিক্রমণের ফলে পৃথিবীর অবস্থানের পরিবর্তন সাধিত হইতেছে। ২১শে মার্চের পর হইতে সূর্য ধীরে ধীরে নিরক্ষরেখার উত্তর দিকে লম্বভাবে পড়িতে আরম্ভ করে। ফলে সূর্যের আলো উত্তর গোলার্ধে অধিকতর পড়িতে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ক্রমশঃই সূর্যালোক কমিতে থাকে। এই ভাবে চলিতে চলিতে ২১শে জুন তারিখে সূর্য ২৩২০ ডিগ্রী উত্তর অক্ষরেখার (কর্কটক্রান্তি) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ঐ দিনে সূর্যের উত্তরদিকে গতি শেষ হয় বলিয়া ঐ দিনকে উত্তর অয়নান্ত দিবস (Summer Solstice)। ঐদিন সূর্য সুমেরু অতিক্রম করিয়া ২৩২ ডিগ্রী অক্ষাংশ অর্থাৎ ৬৬২০ ডিগ্রী উঃ অক্ষাংশ বা সুমেরুবৃত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ঐ দিনই উত্তর গোলার্ধে সর্বাপেক্ষা বড় দিন এবং দক্ষিণ গোলার্ধ সর্বাপেক্ষা কম আলোক পাওয়ার দরুন ঐ দিন দক্ষিণ গোলার্ধে সর্বাপেক্ষা ছোট দিন


২১শে জুনের পর হইতে কর্কটক্রান্তি হইতে সরিয়া আসিতে আসিতে সূর্য ক্রমশঃ দক্ষিণ গোলার্ধে লম্বভাবে কিরণ দিতে আরম্ভ করে। এই ভাবে চলার পর ২৩শে সেপ্টেম্বর তারিখে সূর্যকিরণ বিষুবরেখার উপর লম্বভাবে পতিত হয়। পূর্বেই বলা হইয়াছে ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর দিবা-রাত্রি সমান হয়। ২১শে জুন-এর পর হইতেই সূর্যের দক্ষিণায়ন আরম্ভ হয়। এবং সেই সময় হইতেই দক্ষিণ গোলার্ধে দিন বড় হইতে থাকে। অবশেষে ২১শে ডিসেম্বর তারিখে সূর্যকিরণ মকরক্রান্তিতে অথবা বলা যাইতে পারে ২৩২০ ডিগ্রী দক্ষিণ অক্ষরেখায় লম্বভাবে পতিত হয়। এইদিন দক্ষিণ গোলার্ধে সর্বাপেক্ষা অধিক সূর্যকিরণ পতিত হওয়ায় দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন। ইহা ২১শে জুনের ঠিক বিপরীত। ২১শে ডিসেম্বর তারিখে সূর্যের দক্ষিণায়ন শেষ হয় বলিয়া এই দিনকে দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস (Winter) Solstice) বলা হয়। ২১শে ডিসেম্বরের পর হইতে পৃথিবী আবার পরিক্রমণণব করিতে থাকিলে সূর্যকিরণ মকরক্রান্তির উত্তর দিকে লম্বভাবে কিরণ দেয় উক্ত তারিখের পর হইতেই সূর্য উত্তর গোলার্ধের দিকে সরিতে থাকে বলিয়ামে প্রতীয়মান হয় এবং তখন হইতে সূর্যের উত্তরায়ণ আরম্ভ হয়। 


 উক্ত আলোচনা হইতে বুঝা যায় যে পরিক্রমণের ফলে পৃথিবীর কেবলমাত্র নিরক্ষরেখায় অবস্থিত স্থানগুলি ব্যতীত অন্যান্য সকল স্থানেই দিবারাত্রির পরিমাণের হ্রাসবৃদ্ধি হয়। অবশ্য সর্বত্রই এই হ্রাসবৃদ্ধির মাত্রা সমান নহে।

About the author

Irisha Tania
"আমি সেই মেয়ে, যে শব্দে বাঁচে। কলম আমার অস্ত্র, আর কাগজ আমার স্বপ্নের আকাশ। প্রতিটি অনুভব, প্রতিটি চিন্তা আমি সাজিয়ে রাখি অক্ষরের গাঁথুনিতে। কখনো গল্পে, কখনো কবিতায়, আবার কখনো নিঃশব্দের ভেতরে। আমি লিখি, কারণ লেখার মাঝে আমি নিজেকে খুঁজে পাই। …

Post a Comment