What are the causes of the change of seasons 2 How does this change occur? ঋতু পরিবর্তনের কারণ কি? এই পরিবর্তন কেমন করিয়া। সংঘটিত হয়?
আমরা জানি যে পৃথিবীর দুইটি গতি আছে। একটি আবর্তন গতি অপরটি পরিক্রমণ গতি। আবর্তন গতির ফলে দিন ও রাত্রি হইয়া থাকে আবার পরিক্রমণ গতির ফলে দিবা ও রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি হইয়া থাকে। দিবা রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে বৎসরের সকল সময়েই পৃথিবীপৃষ্ঠে তাপমাত্রারও হ্রাস-বৃদ্ধি হইতেছে। উত্তাপের এই তারতম্যকেই ঋতু পরিবর্তন বা change ক seasons আখ্যা দেওয়া হয়।
উত্তাপের তারতম্য আবার সূর্যকিরণের উপর নির্ভর করে। যে সমস্ত জায়গায় সূর্যকিরণ লম্বভাবে পড়ে সেই সমস্ত জায়গাগুলি সর্বাপেক্ষা অধিক তাপ পায়। আবার যে জায়গায় সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়ে সেই সেই জায়গা কম তাপ পাইয়া থাকে। এই কারণেই মধ্যাহ্নসময়ে পৃথিবী সর্বাপেক্ষা অধিক উত্তপ্তর হয়; এবং প্রভাত ও অপরাহ্ন মধ্যাহ্ন হইতে কম উত্তপ্ত হয়।
বা আবার পৃথিবী কক্ষতলের সহিত সর্বদাই ৬৬২০ ডিগ্রী কোণ করিয়ল, পরিক্রমণের ফলে বৎসরের কোন কোন সময়ে কোন কোন স্থলে দিন দীর্ঘতরত এবং রাত্রি হ্যতর হয়। দিনের বেলা পৃথিবী সূর্য হইতে যে তাপ সংগ্রহ করে রাত্রিকালে তাহা বিকিরণ করিয়া দেয়। দিন বড় হইলে দিনের বেলায় সঞ্চিত তাপের সবটাই রাত্রিতে বিকীরণ করা সম্ভব হয় না। কিছুদিন এইভাবে চলিতে থাকিলে সেই অবিকিরিত তাপ সঞ্চিত হইতে থাকে। ফলে গ্রীষ্মের আবির্ভাব হয়। আবার যদি রাত্রি বড় হয় তবে দিনের বেলা সংগৃহীত তাপের পরিমাণ হইতে রাত্রিকালে বেশী তাপ বিকিরিত হয়। ফলে শীতের আবির্ভাব হয়।
পূর্বের চিত্রে দেখা যায় যে ২১শে মার্চের পর হইতে সূর্য উত্তর গোলার্ধের উপর বেশী কিরণ দিতে আরম্ভ করে। ২১শে জুন তারিখে সূর্যকিরণ উত্তর গোলার্ধে সর্বাপেক্ষা বেশী পড়ে। ফলে ঐ তারিখে দিন সর্বাপেক্ষা বড় হয়। অর্থাৎ ২১শে মার্চের পর হইতেই উত্তর গোলার্ধে তাপ একটু একটু করিয়া বাড়িতে থাকে এবং ২১শে জুন সর্বাপেক্ষা অধিক তাপ হয়। ইহার ফলে মে মাস হইতেই গ্রীষ্মকাল দেখা দেয়। ২১শে জুনের পর উত্তর গোলার্ধে দিন একটু একটু করিয়া কমিতে থাকে। তাহা সত্ত্বেও আগস্ট মাস পর্যন্ত রাত্রি অপেক্ষা দিনে বেশী উত্তাপ থাকে।
২৩শে সেপ্টেম্বর দিন ও রাত্রি আবার সমান হয়। এই সময়ে উত্তাপ ও শীত প্রায় সমভাবে থাকে বলিয়া এই সময় শরৎকাল।
২৩শে সেপ্টেম্বরের পর হইতে উত্তর গোলার্ধে রাত্রির পরিমাণ বাড়িতে থাকে বলিয়া পৃথিবী রাত্রিকালে সঞ্চিত তাপের বেশী বিকিরণ করে। ফলে আমরা তখন শীত অনুভব করিতে আরম্ভ করি এবং ২১শে ডিসেম্বর তারিখে যখন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন তখনই আমাদের শীতকাল। ইহার পরে আবার পরিক্রমণ করিতে থাকিলে উত্তর গোলার্ধে দিনের পরিমাণ বাড়িতে আরম্ভ হয় এবং ২১শে মার্চ দিবা-রাত্রি সমান হয়। সুতরাং তখন শীতের আধিক্য কাটিয়া গিয়া শীত ও গ্রীষ্ম সম হয়। তখন আমাদের বসন্তকাল। দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর গোলার্ধের ঠিক বিপরীতক্রমে ঋতু পরিবর্তন হইয়া থাকে। অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধে যখন গ্রীষ্ম, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীত, আবার উত্তর গোলার্ধে যখন শীত, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন গ্রীষ্ম।
উপরোক্ত-আলোচনা হইতে দেখা গেল যে বস্তুত ঋতু চারিটি। গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত। তবে শরৎ ও বসন্তকে 'সন্ধিঋতু' বলা যাইতে পারে। আমাদের ভারতবর্ষে আবার আরও দুইটি ঋতু আছে; যথা-বর্ষা ও হেমন্ত। প্রকৃতপক্ষে ইহারা মৌসুমী বায়ুর প্রভাবের জন্য ঘটিয়া থাকে।
