What are the chief agents that bring about changes in the crust of the earth or in its surface? How do they bring about changes? কোন, কোন, বিভিন্ন শক্তির প্রভাবে ভুত্বকে পরিবর্তন সাধিত হয়? তাহারা কিভাবে এই পরিবর্তন ঘটায়?
বা
হ্যিক এবং আভ্যন্তরীণ কারণে নিয়তই পৃথিবীপৃষ্ঠে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে । আভ্যন্তরীণ কারণগুলির মধ্যে ভূ-আন্দোলন, ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরি (পূর্ব প্রশ্নের উত্তর) উল্লেখযোগ্য। বাহ্যিক কারণগুলির মধ্যে সূর্যকিরণ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, তুষার এবং হিমবাহ, নদীস্রোত, সমুদ্রতরঙ্গ এবং প্রাণী উল্লেখযোগ্য।
সূর্যকিরণঃ সূর্যকিরণে নিয়তই ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হইতেছে এবং রাত্রিতে উহা আবার শীতল হইতেছে। এই শীতোত্তাপের জন্য ভূপৃষ্ঠ অনবরত সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হইতেছে। ইহাতে ভূপৃষ্ঠের শিলারাজি চূর্ণ-বিচূর্ণ (weathered) হয়। পরে এইগুলি বায়ু, বৃষ্টি ইত্যাদি দ্বারা অনুত্র নীত (transported) হয়। এইভাবে শিলার বিনাশকে ক্ষয় (erosion) বলে।
বায়ুপ্রবাহঃ বায়ুতে যে অঙ্গারায় (carbon dioxide) এবং অম্লজান (oxygen) আছে তাহার সহিত রাসায়নিক প্রক্রিয়া দ্বারা বা বায়ুস্থিত ধুলিকণার ক্রমাগত ঘর্ষণে শিলাগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়া থাকে। পরে ইহা বায়ু, জল ইত্যাদির সাহায্যে স্থানান্তরে নীত হয়। এইভাবেই মরুভূমি ও সমুদ্রতীরবর্তী স্থানে বালু জমা হইয়া বালিয়াড়ির সৃষ্টি করে।
বৃষ্টিপাতঃ বৃষ্টিপাতের সময় বায়ুস্তর হইতে carbon dioxide বৃষ্টির জলে মিশিয়া ভূপৃষ্ঠে পতিত হইলে ইহা ভূত্বকের শিলাস্তরের একপ্রকার রাসায়নিক পরিবর্তন সাধন করে। আবার বৃষ্টিপাতের আঘাতেও শিলাস্তরের ক্ষয় হয়। এই ক্ষয়িত শিলা পরে অন্যত্র নীত হয়। ইহাতে ভূপৃষ্ঠে পরিবর্তন সাধিত হইতছে।
তুষার ও হিমবাহঃ পার্বত্য অঞ্চলের ফাটলে বৃষ্টির জল জমা হইলে তাহা হইতে বরফ তৈরি হয় এবং আয়তনে বাড়ে। তখন ইহার চাপে শিলাগুলি ফাটিয়া যায়। আবার হিমপ্রবাহের প্রবল ঘর্ষণে ও চাপে পর্বতগাত্রস্থ শিলা ভাঙিয়া ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং অন্যত্র নীত হয়।
নদীস্রোতঃ নদী পৃথিবীপৃষ্ঠের অনেক পরিবর্তন সাধন করে। উৎপত্তিস্থলে নদীর বেগ তীব্র থাকায় তাহার যাত্রাপথের শিলাগুলি ভাঙিয়া চুরমার হইয়া যায়। ইহার প্রাথমিক কাজ ক্ষয়সাধন। সমভূমির উপর দিয়া যখন ধীর গতিতে (মধ্যগতি) নদী অগ্রসর হয়, তখন সাধারণতঃ ইহা ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাগুলিকে বহিয়া নিয়া যায়। এইখানে নদীর বহন কাজ। নিম্নগতিতে নদী এই বাহিত শিলাগুলি (কর্দম, বালি প্রভৃতি) নদীগর্ভে বা সাগরমুখে সঞ্চিত করিয়া ব-দ্বীপের সৃষ্টি করে। এইখানে নদীর কাজ অবক্ষেপন (deposition)।
সমুদ্রতরঙ্গঃ সমুদ্রতরঙ্গ উপকূলে ক্রমাগত আঘাত করিয়া উপকূলভাগের অবিরত ক্ষয়সাধন করে। ফলে সমুদ্রের অংশসমূহ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া খাড়ির সৃষ্টি করে।
প্রাণীঃ কেঁচো, পিঁপড়া, ছুঁচো প্রভৃতি প্রাণী প্রতিনিয়ত মাটি খুঁড়িয়া খুঁড়িয়া ঢিপি করিয়া রাখে। অবশ্য ইহাতে জমি খুবই উর্বর হয়।
