বার্ষিক গতি বলিতে কি বুঝ? এই গতি না থাকিলে কি হত?
পরিক্রমণ বা বার্ষিক গতি-
আহ্নিক গতির ফলঃ আহ্নিক গতির ফলে দিবা ও রাত্রি এবং ভূপৃষ্ঠে সমুদ্র ও বায়ুস্রোতের পরিবর্তন হইয়া থাকে। পৃথিবী আপন অক্ষের চারিদিকে ঘুরিতে ঘুরিতে সূর্যের চারিদিকে ৩৬৫৯ দিনে সম্পূর্ণরূপে একবার সূর্যকে পরিক্রমণ করিয়া থাকে। সূর্যের এই গতিকে পরিক্রমণ বা Revolution বলে। এই পরিক্রমণ-কালকে এক-একটি বৎসর ধরা হয়। আবার সূর্যকে পরিক্রমণ করিতে পৃথিবীর এক বৎসর লাগে বলিয়া এই গতিকে পৃথিবীর বার্ষিক গতি (annual motion) বলে। যে সমতলে পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে তাহাকে কক্ষপথ বা orbit বলা হয়।
বার্ষিক গতির প্রমাণ:
- বৎসরের সকল সময়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত নির্দিষ্ট স্থানে হয় না। কখনও বা উত্তরে কখনও বা দক্ষিণে সরিয়া যায়। ইহা পৃথিবীর বার্ষিক গতির জন্যই সম্ভব।
- দূরবীনের সাহায্যে দেখা যায় অন্যান্য গ্রহগুলি সূর্যকে পরিক্রমণ করিতেছে। পৃথিবী একটি গ্রহ। সুতরাং পৃথিবীরও সূর্যকে পরিক্রমা করা স্বাভাবিক।
- পৃথিবী শুধু মেরুরেখায় (axis) আবর্তন করিলে ঋতু-পরিবর্তন সম্ভব হইত না।
- রাত্রিকালে নক্ষত্রগুলির দিকে তাকাইলে দেখা যাইবে উহারা প্রত্যহই স্থান পরিবর্তন করিতেছে এবং ক্রমশঃ চক্ষুর অন্তরাল হইতেছে। আবার নূতন নক্ষত্র দেখা যাইতেছে। এইরূপ পরিবর্তিত হইতে হইতে এক বৎসর পর ইহারা আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়া আসিতেছে। পৃথিবীর অবস্থান পরিবর্তনের জন্যই উহা সম্ভব।
বার্ষিক গতির ফলঃ বার্ষিক গতির ফলে দিবারাত্রির হ্রাসবৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তন হইয়া থাকে।
