নদীর উৎপত্তি (Formation of Streams and Rivers) সম্পর্কে আলোচনা কর
পৃথিবীর সর্বঅংশেই বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হয়; তবে, কোন অঞ্চলে অধিক, আবার কোন অঞ্চলে নগণ্য মাত্র, এমন কি শুষ্ক মরুভূমিতে হয়ত ৪/৫ বৎসর অন্তর অতি সামান্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত হইয়া থাকে। বৃষ্টিপাতের জল কতকাংশ ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়া বহিয়া যায়, কতকাংশ সছিদ্র শিলাস্তরের বা ফাটলের মধ্যে প্রবেশ করে এবং কতকাংশ জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। ভূ-নিম্নস্থ শিলাস্তরের প্রকৃতির বিভিন্নতা ও তাহাদের বিভিন্ন অবস্থান হেতু ভূনিম্নস্থ জল চুয়াইয়া চুয়াইয়া চলে এবং অবশেষে প্রস্রবণরূপে বাহির হয়। হিমরেখার উর্ধ্বে তুষারপাত হয়। আর, তুষাররাশি জমিয়া যে হিমবাহ সৃষ্টি করে, তাহাও ধীরে ধীরে হিমরেখা অতিক্রম করিলে গলিয়া যায়।
তখন বরফগলা জল নিম্নদিকে প্রবাহিত হয়। কোন কোন অঞ্চলের হ্রদের বা জলাভূমির বাড়তি জ্বল ভূ-পৃষ্ঠের ঢাল (Slope) অনুসরণ করিয়া বহিয়া যায়। তাই, বৃষ্টিপাতের জল, প্রস্রবণের জল, বরফগলা জল, হ্রদের বা জলাভূমির বাড়তি জলই নদনদীর সৃষ্টির হেতু। নদীর উৎপত্তি-স্থানকে উৎসক্ষেত্র (Source) বলে। উৎসক্ষেত্রে নদী সাধারণতঃ ক্ষীণ কায়া। ইহার পর ছোট-বড় জলধারা মিলিত হইলে নদীর কলেবর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। আর, নদী ভূ-পৃষ্ঠের ক্রমাবনতি অনুসরণ করিয়া প্রবাহিত হয় এবং অবশেষে সমুদ্রে বা হ্রদে কিংবা অন্য নদীতে পড়ে। তবে মরুভূমি-অঞ্চলে প্রবাহিত হইলে কখন কখন নদীর ধারাপথ ক্রমশঃ ক্ষীণ হইয়া অবশেষে ইহা লুপ্ত হইয়া যায়। নদীর সমুদ্রের বা হ্রদের সহিত মিলন-স্থানকে মোহনা (Mouth of the River) বলে। আর, প্রশস্ত নদী-মোহনাকে বলে খাড়ি (Estuary)। যে সকল নদী সমুদ্রে পতিত না হইয়া দেশের অভ্যন্তরে কোন হ্রদে বা জলাভূমিতে পতিত হয় কিংবা যে সকল নদীর ধারাপথ ক্রমশঃ ক্ষীণ হইয়া লুপ্ত হয়, তাহাদিগকে বলে অন্তর্বাহিনী নদী (Rivers of Inland Drainage); যথা শিরদরিয়া, আমুদরিয়া, জর্ডন, তারিম প্রভৃতি নদনদী।
