পৃথিবীর আকৃতি সম্বন্ধে যা জান তার বল । পৃথিবী যে গোলাকার তাহা কিভাবে প্রমাণ পারা যায়?]
সাধারণভাবে পৃথিবীকে আমাদের নিকট সমতলক্ষেত্র বলেই প্রতীয়মান হয়। পৃথিবীর বিশালতার জন্যই এটা সম্ভব । যেমন একটি বড় বলের উপর একটি দু'আনি রাখিলে দু'আনিটি বলের সঙ্গে সমানভাবে মিশে যায় এবং দু'আনি পরিমিত স্থানটি সমতল বলে মনে হয়, আমরাও পৃথিবীর সঙ্গে অনুরূপভাবে মিশে আছে; এবং আমরা পৃথিবীর যতটুকু দেখতে পাই সেই স্থানটুকু সমতল বলে মনে হয় । প্রকৃতপক্ষে পৃথিবী গোলাকার । তবে পৃথিবী সম্পূর্ণ গোল নয় । উত্তর ও দক্ষিণদিকে কিছু চাপা । আধুনিক বৈজ্ঞানিকদের মতে ইহা ঠিক কমলালেবুর মত (oblate spheriod বা অভিগত গোলক) নয় । অনেকটা আপেলের মত । এই উপমাগুলি পৃথিবীর আকৃতিকে বুঝিবার জন্য সাহায্য করে মাত্র । আসলে পৃথিবী তাহার নিজস্ব প্রকৃতি অনুযায়ীই গোলাকার । এইজন্যই বৈজ্ঞানিকরা বলেন পৃথিবীর আকৃতি পৃথিবীরই মত (geoid or earth shaped).
প্রমাণঃ
- পৃথিবীর যে কোন স্থান হইতে কোন একটি পথে সোজা চলিতে থাকিলে পুনরায় যাত্রাস্থলে ফিরিয়া আসা যাইবে। পৃথিবী সমতল হইলে কোনদিন যাত্রাস্থলের সন্ধানও পাওয়া যাইত না।
- তীরের দিকে কোন জাহাজ আসিতে থাকিলে প্রথমে তাহার মাস্তুলের অগ্রভাগ, ক্রমে সমস্ত অংশগুলি দৃষ্টিপথে পড়িবে। পৃথিবী সমতল হইলে সমগ্র জাহাজই একই সঙ্গে চোখে পড়িত।
- অতি বিস্তৃত ফাঁকা জায়গায় দাঁড়াইলে দেখা যায় যে, আকাশ ও পৃথিবী চারিদিকেই বৃত্তাকারে মিলিত হইয়াছে। ইহার নাম দিগন্ত বা horizon, ভূপৃষ্ঠ হইতে যতই উপরে যাওয়া যাইবে ততই এই দিগন্তের পরিধি বৃদ্ধি পাইবে বটে কিন্তু সর্বদাই ইহাকে (দিগন্তকে) গোলাকার দেখা যাইবে। পৃথিবী গোল না হইলে ইহা সম্ভব হইত না।
- অন্যান্য গ্রহের ন্যায় পৃথিবীও একটি গ্রহ। অন্যান্য গ্রহ গোল। স্বভাবতঃই মনে করা যায় যে পৃথিবীও গোল হইবে।
- পৃথিবীর পূর্বাংশের দেশগুলিতে আগে সূর্যোদয় হয় এবং পশ্চিমের দেশগুলিতে পরে সূর্যোদয় হইয়া থাকে। সমতলক্ষেত্র হইলে পৃথিবীতে সূর্যোদয়ের এই তারতম্য হইত না। একই সঙ্গে সূর্যোদয় হইত।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া চন্দ্রে পড়িলে উহাকে গোলাকার দেখায়। গোল জিনিসের ছায়া সর্বদাই গোলাকার হয়। অতএব পৃথিবী নিশ্চয়ই গোলাকৃতি হইবে।
- একটি বিস্তীর্ণ জলাশয়ে একটি সরলরেখায় তিনটি দণ্ড স্থাপন করি। দণ্ড তিনটির দূরত্ব সমান সমান হইবে এবং জলপৃষ্ঠ হইতে ইহাদের উচ্চতা সমান হইবে। এখন একপ্রান্ত হইতে লক্ষ্য করিলে দেখা যাইবে যে, প্রান্তের দণ্ড দুইটি হইতে মধ্যের দণ্ডটি অধিকতর উঁচু। পৃথিবী গোল বলিয়াই ইহা সম্ভব। ইহা Alfred Russel Wallace-এর আবিষ্কার।
- নিরক্ষরেখা হইতে ক্রমাগত উত্তর দিকে চলিতে থাকিলে ধ্রুবতারাকে ক্রমশঃ উন্নত হইতে দেখা যায় এবং অবশেষে মেরুদেশে ঠিক মাথার উপরে প্রতীয়মান হয়। পৃথিবী গোলাকার হইলেই উহা সম্ভব।
