কোন স্থানের অক্ষাংশ কিভাবে নিরূপণ করা যায়? নিম্নলিখিত উপায়গুলির সাহায্যে কোন স্থানের অক্ষাংশ জানিতে পারা যায়:-
(১) ধ্রুবনক্ষত্রের সাহায্যে উত্তর গোলার্ধের যে কোন স্থানের অক্ষাংশ জানা যায়। উত্তর গোলার্ধের সকল জায়গা হইতে ধ্রুবনক্ষত্রকে দেখা গেলেও সর্বত্রই ইহাকে সমান উঁচুতে দেখা যায় না-বিষুবরেখা হইতে ধ্রুবনক্ষত্রের দিকে তাকাইলে দেখা যায় যেন উহা দিগন্তের সঙ্গে মিশিয়া আছে। সুতরাং বিষুবরেখায় ইহার উন্নতি ধরা হয়০০ ডিগ্রী। আবার বিষুবরেখা হইতে উত্তর দিকে চলিতে থাকিলে ক্রমশঃই ধ্রুবনক্ষত্রের উন্নতি বাড়িতে থাকে; এবং সুমেরু বিন্দুতে ইহাকে ঠিক মাথার উপর বা ৯০০ ডিগ্রীতে দেখা যায়। বিষুবরেখার ° অক্ষাংশ হইতে সুমেরু বিন্দুর ৯০০ অক্ষাংশ পর্যন্ত ধ্রুবনক্ষত্রের উন্নতিও সমহারে অর্থাৎ০০ হইতে ৯০০ বাড়িয়া থাকে। সুতরাং এই পর্যবেক্ষণ হইতে ইহাই বলা যাইতে পারে যে উত্তর গোলার্ধে কোন স্থানের অক্ষাংশ সেই স্থানের ধ্রুবনক্ষত্রের উন্নতির সমান।
ধ্রুবনক্ষত্রের সাহায্যে কেবলমাত্র উত্তর গোলার্ধেই অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। দক্ষিণ গোলার্ধে অপর একটি নক্ষত্রের (Hadleys Octant সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণীত হইতে পারে কিন্তু কোন নক্ষত্রই ঠিক ঠিক ভাবে দক্ষিণ মেরুতে না থাকার দরুন দক্ষিণ গোলার্ধে এই প্রক্রিয়ার অক্ষাংশ নির্ণয় করা কঠিন।
(২) মধ্যাহ্ন-সূর্যের উন্নতির দ্বারাও অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্যকে বরাবর পূর্বদিকে উদিত হইতে এবং বরাবর পশ্চিমদিকে অস্ত যাইতে দেখা যায়। বৎসরের অন্যান্য সময় সূর্য উত্তর বা দক্ষিণদিকে হেলিয়া থাকে। সূর্যের এই আপাতগতির জন্যই বিষুবলম্ব (declination of the sun) বৎসরের বিভিন্ন দিনে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন নৌসারণী (Nautical Almanac) নামক পুস্তকে লিপিবদ্ধ থাকে। ২১শে মার্চ হইতে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সূর্যের বিষুবলম্ব উত্তরদিকে এবং ২৩শে সেপ্টেম্বর হইতে ২১শে মার্চ পর্যন্ত এই বিষুবলম্ব দক্ষিণদিকে থাকে। সুতরাং উত্তর গোলার্ধের কোনস্থানের অক্ষাংশ জানিতে হইলে প্রথমোক্ত সময়ে সূর্যের মধ্যাহ্নকালীন উন্নতির (sextant যন্ত্রের সাহায্যে) সহিত উত্তর বিষুবলম্ব যোগ এবং শেষোক্ত সময়ে মধ্যাহ্ন-সূর্যের উন্নতির সহিত দক্ষিণ বিষুবলম্ব বিয়োগ করিতে হয়।
(৩) একটি খোলা জায়গায় একটি খুঁটি লম্বভাবে পুঁতিয়া রাখিয়া গ্রীষ্মকালে উহার সবচেয়ে ছোট ছায়া এবং শীতকালে সবচেয়ে বড় ছায়া নির্দিষ্ট করিয়া রাখিতে হইবে। তারপর এই দুই ছায়ার প্রান্ত (মাথা) দুইটিকে একটি সরল রেখা দ্বারা যোগ করিলে উহা খুঁটির সহিত যে কোণ উৎপন্ন করিবে তাহাকে সমান দুইভাগে ভাগ করিতে হইবে। এই দ্বিখণ্ডিত কোণের পরিমাপই হইবে ঐ স্থানের অক্ষাংশ।
